যারা যারা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে চাও তাহলে দেখে এই ১০টি উপায়।”পরীক্ষা ” শব্দটি শুনলেই আমরা অনেকেই ভয় পাই। এই ভয়ের কারণে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হলেও ফল কিন্তু অনেক সময়ই ভালো হয় না। তাই এই ভয়কেই জয় করতে শিখতে হবে আমাদের। সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা তাই দেখে নাও এই জরুরি টিপসগুলি।

আমরা করবো জয় , আমরা করবো জয়
আমরা করবো জয় নিশ্চয়।
আহা বুকের গভীরে , আছে প্রত্যয়
আমরা করবো জয় নিশ্চয়।
স্কুল,কলেজের এই দিনগুলি আমাদের কাছে থেকে যায় সোনালী মুহূর্ত হয়ে। এই সময় আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে অনেক কিছু নতুন জিনিস শিখতে পারি। আর বন্ধুবান্ধবদের সাথে আনন্দ করার দিন কারণ এই সময় চলে গেলে আনন্দ, হাসি,মজাগুলোই থেকে যায় জীবনে স্মরণীয় হয়ে। কিন্তু এটাই তোমাদের জীবনে নিজেকে গড়ে তোলার একমাত্র সময়। সব কিছুর সাথে সাথে পড়াশোনাটাও আমাদের করতে হবে দৃঢ়তার সাথে। কারণ ছাত্রজীবনে এটাই আমাদের প্রধান কাজ। পরিবারের কাছে আমরা সবাই শুনে আসি যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এ ভালো রেজাল্ট না হলে আমরা আমাদের পছন্দের জিনিস পড়তে পারবনা। হ্যাঁ এই কথাটা একদমই সঠিক কিন্তু মনে রাখবে জীবনের প্রত্যেকটা পরীক্ষায় অত্যন্ত মূল্যবান। আনন্দ মজা করে এবার ১০টি পদ্ধতি দেখে নেওয়া যাক যা অনুসরণ করলে আমরা ভালো ফল করতে পারবো।
১. নির্দিষ্ট সময়,তালিকা ও বিষয় নির্বাচন :
আমাদেরকে প্রথমেই যা অনুসরণ করে পড়তে হবে তা হলো সঠিক সময়ের সাথে সাথে বিষয়ের নির্বাচনা। নিজের সুবিধা মতো সময় করে নিয়মিত পড়তে বসা এবং তার সাথে সাথে কোন সময়ে কোন বিষয়ের পরিচ্ছেদ পড়বে তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরী করা। এই ভাবে সময় দিয়ে করলে খুৱ কম সময়ের মধ্যে আমরা নিজেদের পাঠসূচি শেষ করে পারবো। সময়,তালিকা ও বিষয় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
২. ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া :
নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পড়ানোর সময় গভীর মনোযোগ দেওয়া খুব প্রয়োজন। মনযোগ না দিলে সে বিষয় সমন্ধে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে জানতে পারিনা। সে বিষয়ে আমরা জানতে পারি অর্ধেক।যে কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকা একান্ত জরুরি। তাই মনোযোগ দিয়ে শুনলে বাড়িতে এসে পড়া করা খুবই সহজ হয়ে যাই আর আমরা মনেও রাখতে পারি খুব ভালো করে। তাই মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা খুবই দরকার।
৩. বুঝে পড়া :
মুখস্থ করে পড়ার থেকে বুঝে পড়া একটা ভালো দিক। কারণ পরীক্ষার সময় হয়তো কোনো শব্দ ভুলে গেলে তা মনে করতে সময় চলে যাই সেই সময় কে বাঁচাতে বুঝে পড়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু মনে রাখবে সবসময় কারুর উক্তি দিলে সেখানে কিন্তু মোটেও নিজের ভাষা ঢোকাবে না। সবসময় চেষ্টা করবে উক্তিগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সালগুলোকে মুখস্থ করার। বুঝে পড়ার আর একটা বৈশিষ্ট হলো- বুঝে পড়লে তা মনে থাকবে চিরকাল কিন্তু মুখস্থ করলে মনে থাকবে না। বুঝে পড়ার আনন্দও একটা আলাদা হয়।
৪. ফোন থেকে বিরত থাকতে হবে :
পড়ার সময় ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে আমাদের। যাতে সময় ও মনোযোগের সহিত আমরা পড়তে পারি। আমরা জানি ফোন থেকে এখন অনেক তথ্য পাওয়া যাই কিন্তু পড়ার সময় ফোনকে নিজের থেকে বিরত রাখাটাই সবচেয়ে ভালো কাজ।
৫. রিভিশন দেওয়া ও না দেখে লেখা :
রিভিশন দেওয়া হলো ভালো পরীক্ষা ও ভালো ফল পাওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। পাঠসূচি শেষ করার পর সময় করে পরিচ্ছেদ ধরে ধরে বার বার রিভিশন করা খুব দরকার। যত বার রিভিশন করবে ততটাই নিজের ওপর কনফিডেন্স আসবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সমস্ত ছোট বড়ো জিনিসকে মনে রাখতে হবে। তারপর না দেখে সময় ধরে লিখলেই বুঝতে পারবে তোমার প্রস্তুতি কতটা হয়েছে।

৬.পরীক্ষার দিন স্বাভাবিকভাবে থাকা :
পরীক্ষার দিন সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকাটা খুবই দরকার নাহলে তোমার এতদিনের চেষ্টার ফল বৃথা যাবে। খুব সাধারণ খাবার খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে আর একদম চিন্তা ও ভয় করবে না। সাধারণ ভাবে গিয়ে কক্ষে বসবে নিজ স্থানে। বন্ধুদের সাথে গল্প কম করবে নাহলে পরীক্ষার জন্য মনোযোগ থাকবে না। স্বাভাবিক থাকা খুবই মূল্যবান।

৭. প্রশ্নপত্র সঠিক ভাবে পড়ে উত্তরপত্র করা :
অনেক সময় প্রশ্নপত্র সঠিকভাবে না পড়লে বাড়ি এসে দেখা যাই জানা প্ৰশ্ন ছাড়া গেছে। তাই প্ৰশ্নপত্র দেখে সঠিক নম্বর দিয়ে উত্তরপত্রটি সঠিক সময়ের মধ্যে সাজিয়ে নেওয়া।উত্তরপত্র সাজিয়ে নিয়ে সংস্করণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটু ভুল হলেই তার নম্বর চলে যাবে তার জন্য ধীর স্থির ভাবে সংস্করণ করবে। উত্তরপত্রের মধ্যে দিয়েই কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল হবে। সতর্কের সহিত লিখতে হবে তোমাদের।
৮.হাতের লেখা করতে হবে পরিষ্কার-পরিছন্ন :
অনেকেরই হাতের লেখা ভালো নয় কিন্তু তাতে কোনো এসে যাবে না। লিখতে হবে বড়ো বড়ো করে, পরিষ্কার ও পরিছন্ন করে। যাতে যিনি খাতা দেখবেন তাতে যেন সুন্দর বোধ করেন। বেশি কাটাকাটি করবে না।
৯. পর্যায়ক্রমে ও পয়েন্ট করে লিখতে হবে :
হাতের লেখা পরিষ্কারের সাথে সাথে আমাদের লেখাকে আরো সুন্দর করে তুলতে হলে লিখতে হবে পর্যায়ক্রমে ও পয়েন্ট করে। আমাদের লেখার সাথে সাথে সৌন্দর্যের দিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। সব কিছুর সাথে সৌন্দর্য রাখলে যিনি খাতা দেখছেন তিনি আপনার উৎসর্গকেও দেখবেন।
১০.একটি বিষয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর:
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সে বিষয় নিয়ে একদম চিন্তা না করে বাড়িতে এসে রেস্ট নিয়ে পরের দিনের বিষয়ের জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নেওয়া।
এইসব কৌশল গুলো অবলম্বন করলে ভালো পরীক্ষা এবং ভালো ফল পাওয়া নিশ্চিত।