নিজস্ব সংবাদদাতা- ভ্যাকসিন কূটনীতিকে হাতিয়ার করে দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। সেই উদ্দেশ্যে বেশকিছু দেশকে বিনামূল্যে ৮ লক্ষ ১০ হাজার ডোজ করোনা টিকা পাঠানোর ব্যাপারে ইতিমধ্যেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি টিকা রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। কূটনৈতিক মহলের মতে পদ্মাপারের দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও মাঝে মধ্যেই তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ভ্যাকসিন কূটনীতিকে হাতিয়ার করে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টায় ভারত।

সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ডের কুড়ি লক্ষ ডোজ করণো টিকা প্রথম পর্যায়েই বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের মতো দেশগুলিতেও টিকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জানা যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের জন্য ১৫ লক্ষ ডোজ টিকার বিষয়ে চুক্তি করেছে। শীঘ্রই এই টিকা সে দেশে পাঠানো হবে। এর পাশাপাশি ভারত বায়োটেকের সঙ্গে করোনা টিকার বিষয়ে কথা চালাচ্ছে ব্রাজিল সরকার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে মায়ানমার, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, মঙ্গোলিয়া, ওমান, বাহরিন, মরিশাসের মতো দেশগুলিতে শুভেচ্ছা হিসাবে বিনামূল্যে মোট ৮ লক্ষ ১০ হাজার ডোজ করোনার টিকা পাঠাবে ভারত সরকার। তবে এই দেশগুলিতে পূর্ণ মাত্রায় টিকা রপ্তানির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জানা গিয়েছে এই সমস্ত ‘শুভেচ্ছা টিকা’ প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে।

প্রাথমিকভাবে ২১ টি দেশে ভারত বায়োটেক ও সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি করোনা টিকা রপ্তানি করার বিষয়ে কেন্দ্র সবুজ সংকেত দিয়েছে। যদিও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দেশের সমস্ত মানুষকে টিকা দেওয়ার চাহিদা না মিটিয়েই কেন সরকার অন্য দেশে রফতানির অনুমতি দিচ্ছে। এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা খেলাপের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

বাংলাদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান,নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ধাপে ধাপে করোনা টিকা পাঠানোর বিষয়ে ভারত সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তানের বিষয়ে আপাতত ধীরে চলো নীতি নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের তরফ থেকেও ভারতের এই দুই সংস্থার কাছ থেকে টিকা কেনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।